পোড়া ক্ষতের চিকিৎসা আগে খুব সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে ব্রাজিলের চিকিৎসকরা একটা নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যেখানে ব্যবহার করা হয় তেলাপিয়া মাছের ত্বক।
পোড়া ক্ষতের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় স্তর বা থার্ড ডিগ্রি বার্ন সবচেয়ে গুরুতর। এতে মানুষের শরীরের চামড়া গভীর থেকে পুড়ে যায়। তবে মানুষের শরীরের তৃতীয় ডিগ্রি বার্নের ক্ষেত্রে গবেষক চিকিৎসকরা দেখছেন তেলাপিয়া মাছের ত্বক নিরাময়ে এখন পর্যন্ত খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
বায়োলজিক্যাল ড্রেসিং হিসেবে তেলাপিয়া মাছের ত্বক ব্যবহারের ফলে গবেষকরা দেখেছেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সফলতা পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য কোনো ওষুধেরও প্রয়োজন পড়ে না খুব একটা। যার ফলে খরচ কমে যায় অনেকখানি।
তেলাপিয়া মাছের ত্বক ব্যবহারের কয়েকটি কারণ হলো এতে তেলাপিয়ার ত্বক মানুষের ত্বকের মতোই সমপরিমাণ আর্দ্রতা এবং কোলাজেন ধারণ করে, দ্বিতীয়ত জৈবিক ড্রেসিং হিসেবে খুব সহজে মানুষের ত্বকের সঙ্গে মিশে যেতে পারে এটি।
এছাড়া ব্যথা উপশমে সহায়তা ও মানুষের ত্বকের মতোই রোগ প্রতিরোধী হয়ে থাকে তেলাপিয়া মাছের ত্বক।
ব্রাজিলের চিকিৎসক ও গবেষকরা এ পর্যন্ত ৫৬ জন মানুষের উপর এই নতুন পদ্ধতিটি পরীক্ষা করেছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।
শুধু ব্রাজিল নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং চীনসহ অন্যান্য দেশে এই পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করছে এবং গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। তবে মানুষের শরীরে তেলাপিয়া মাছের ত্বক ব্যবহার করার আগে তা ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হয়, বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক দিয়ে এই কাজটি করা হয়। তাই চ্যালেঞ্জ রয়ে যায়।
তবে আশা করা যাচ্ছে গবেষণার অগ্রগতির সাথে সাথে, তেলাপিয়ার ত্বক আধুনিক ওষুধের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে এবং আশা করা যায় ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এই চিকিৎসার সুবিধা পাবে।









