অনলাইন জগতে এমনিতেই সব গতিশীল। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজনে যেন এটি আরও সহজ এবং দ্রুততর হয়েছে। কী নেই এতে? আপনি যেকোনও প্রশ্ন করলে তা সাথে সাথে উত্তর দিতে পারে,
নির্দেশনা অনুযায়ী আউটপুট দিতে পারে। বিভিন্ন ধরনের কাজে সহযোগিতামূলক তথ্য দেয়া ছাড়াও প্রম্পট অনুযায়ী নতুন অনেক কনটেন্টও তৈরি করে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। এর মধ্যে একটি হলো মন মতো ছবি তৈরি করা।
এখনকার দিনে ফেসবুকে এআই ছবি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে বলা যায়। এই ধরনের ছবিগুলো সাধারণত কয়েক মিনিটেই তৈরি হয়। আগে যেখানে কারও ডিজাইন শিখতে বা গ্রাফিক্সে সময় দিতে হতো, এখন শুধু কিছু শব্দ লিখলেই সেই লেখা থেকে ছবি বের হয়ে আসছে।
ফলে, যে কেউ চাইলেই শিল্পীর মতো ছবি বানিয়ে ফেলতে পারছে। ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে, মানুষ এসব ছবি দিয়ে প্রোফাইল আপডেট করছে, আবার কেউ কেউ গল্প লিখে তার সাথে এআই ছবি যোগ করছে, যাতে পোস্টটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
মানুষ মজা করার জন্য, আবার অনেকে কাজের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। এই নতুন ধরনের কনটেন্ট মানুষের কল্পনা শক্তিকে একেবারে নতুনভাবে সামনে আনছে।
অনেক সময় আবার কিছু ছবি দেখে হাসির রোল পড়ে যাচ্ছে, কারণ টুলগুলো সবসময় নিখুঁত কাজ করে না। যেমন, হাতের আঙুল বাড়তি হয়ে যাওয়া, বা চোখ অদ্ভুতভাবে দেখা যাওয়া, এসব বিষয় আরও ভাইরাল হচ্ছে।
এই যেমন কিছুদিন আগে পুরো ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম ছেয়ে ছিল স্টুডিও জিবলি স্টাইলের অ্যানিমেশন ছবি দিয়ে। স্টুডিও জিবলি একই রকম অ্যানিমে ফিগার তৈরি করে প্রোফাইল, কাপল, বেবি ছবি দিয়ে গোটা ফেইসবুক সয়লাব হয়ে গিয়েছিল।
স্টুডিও জিবলির তৈরি অ্যানিমে মুভি যেমন 'স্পিরিটেড অ্যাওয়ে', 'মাই নেইবার টোটোরো' এবং 'হাওলস মুভিং ক্যাসেল' বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এবার ভাইরাল হলো আরেক এআই ছবির ট্রেন্ড: রেট্রো শাড়ি।
রেট্রো শাড়ি ট্রেন্ড
কিছুদিন ধরেই ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে এই ছবি দিয়ে। আপনি অবশ্যই দেখে থাকবেন বা বানিয়েছেন ইতোমধ্যে। এই ছবিতে ব্যবহারকারীদের বর্তমান ছবিকে এই আই-এর সাহায্যে আশি বা নব্বইয়ের দশকের পুরোনো বলিউডের কোনও অভিনেত্রীর ছবির মতো রূপ দেওয়া হয়।
এই ধরনের ছবিতে পুরোনো দিনের আবহ, শাড়ি এবং রোম্যান্টিক লুকের কারণে এটি ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিফন শাড়ি, কানে ফুল, কোণে দেখা রোদ, এই প্রম্পট-এ তৈরি ছবি শেয়ার হয়েছে ব্যাপক হারে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডে, বই হাতে, জামদানি শাড়ি পরে, পদ্ম বিলের প্রম্পট দিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক ছবি।
ঝুঁকি ও সতর্কতা
এআই ছবি তৈরির এই মজার ট্রেন্ডের পেছনে কিছু ঝুঁকিও লুকিয়ে আছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার। আপনি যখন কোনও এআই টুলে ছবি আপলোড করেন, তখন সেই ছবি ব্যবহার করে ডিপফেক বা আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করা সম্ভব।
তাই, ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল ছবি আপলোড করার ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ছবি আপলোড করার আগে সংশ্লিষ্ট টুলের গোপনীয়তা নীতি ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিত।
এআইয়ের মাধ্যমে ছবি তৈরি একটি নতুন সৃজনশীল দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি কেবল বিনোদন বা শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কন্টেন্ট নির্মাতা, শিল্পী এবং মার্কেটারদের জন্যও নতুন পথ তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে, যা ছবি তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং বাস্তবসম্মত করে তুলবে।
এই ট্রেন্ডের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কীভাবে এআই আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে এবং নতুন নতুন সৃজনশীল উপায় তৈরি করছে।
tahmira48@gmail.com









