Bangla
3 months ago

আর কতবার নির্বাচনের বাইরে থাকব:  শাহজাহান ওমর

Published :

Updated :

বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে এসে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর কোনো চাপের কথা অস্বীকার করেছেন শাহজাহান ওমর। প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি আর কতবার নির্বাচনের বাইরে থাকতেন।

বিএনপির ২০১৪ সালে নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল বলে মত প্রকাশ করে তিনি জানান, বিএনপি এবার যেন ভোটে আসে, সে জন্য কারাগারে দলটির মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা ইতিবাচক মনোভাবও দেখিয়েছিলেন। পরে কী হয়েছে জানেন না। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

আগামী ৭ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন বৃহস্পতিবার নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে আসেন বিএনপির সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান।

সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজারে নিজের আইন পেশার চেম্বারে শাহজাহান ওমর বলেন, “এই মুহূর্ত থেকে আমি আর ‘বিএনপি ম্যান’ নই।”

“আই উইথ দ্য হ্যাপি হার্ট আফটার ফোরটি ফাইভ ইয়ার অব বিএনপি সার্ভিস, আই হেয়ার বাই ডিক্লেয়ার… আই অ্যাম নো মোর অ্যা বিএনপি ম্যান। আই রিজাইন ফ্রম অল পোস্ট অব বিএনপি।”

ভোট বর্জনে বিএনপির নীতির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে দলটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “‘আর কতবার আমরা নির্বাচনের বাইরে থাকব? বিএনপির দোষ-গুণ বিবেচনার সামর্থ্য আমার নাই। আমি মনে করি, বিএনপির ২০১৪ সালে নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল। ২০১৮ সালে যাওয়া মিসটেক ছিল এবং এবার যাওয়া উচিত ছিল।

“নির্বাচনে গিয়ে দেখতাম কত প্রকার কারচুপি হয়, জালিয়াতি হয়… সেটা পরীক্ষা হতো। জনগণ দেখত বিএনপি নির্বাচনে আসছিল ভোট সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপি হয়েছে।”

২০২২ সালেই রাজনীতি করবেন না জানানোর পর মির্জা ফখরুল তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন বলেও জানান শাহজাহান ওমর। বলেন, “এখন আমার বয়স ৭৭। নির্বাচন আবার আসছে। তা কী করার আছে? বিএনপি তো নির্বাচনে যাচ্ছে না।”

এক প্রশ্নে শাহজাহান ওমর বলেন, “আমি আন্দোলন করেছি একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, যে নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারে।”

বিএনপিকে ভোটে আনতে রাজি করাতে অনেক চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনটি শর্তে ভোটে আসতে রাজি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘‘আমি মহাসচিব (মির্জা ফখরুল), মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মজিবুর রহমান সরোয়ার কেরানীগঞ্জে (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার) একসঙ্গে ব্রেক ফাস্ট করলাম। সেখানে আমি বলেছি, নির্বাচনে যাওয়া উচিত।

“মহাসচিব (ফখরুল) বললেন, ‘হ্যাঁ যাব, তিন কন্ডিশন। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার, ফ্রি ফেয়ার নির্বাচনের একটা অঙ্গীকার বা প্রেক্ষাপট’।

“আমরা এগ্রি করেছি। পরে আমি, আলাল (মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল), আলতাফ চৌধুরী (আলতাফ হোসেন চৌধুরী) কাশিমপুরে (কারাগার) গেলাম। এরপর আমরা আলাদা আলাদা, উনারা কী করেছে জানি না।”

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের মতো এবারও ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সঙ্গে আছে সাবেক ২০ দলীয় জোটের বেশিরভাগ শরিক এবং নতুন কিছু দল ও জোট।

গত ২৯ অক্টোবর থেকে বিএনপির টানা অবরোধ ও হরতাল চলছে। এটি চলতেই থাকবে, এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

Share this news